মোঃ শাহজাহান বাশার
চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মডেল ইশরাত জাহান আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি কক্ষে গত ২৪ জুলাই রাতে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে মারধর, হুমকি, জোরপূর্বক কাগজে স্বাক্ষর এবং অমানবিক নির্যাতন করা হয়। একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ইশরাত জাহানকে ওই হাসপাতালে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রথমদিকে স্বাভাবিক আলাপচারিতা চললেও কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইশরাতের ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে অন্য একজন নারী ভেবে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন। প্রাণভয়ে তিনি প্রকৃত নামের পরিবর্তে অন্য নামে স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করেন।
তার অভিযোগ, এরপর তাকে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে কাঠের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তার হাতে গরম কফি ঢেলে দেওয়া হয় এবং পরে একটি পানীয় পান করতে বাধ্য করা হয়, যাতে অচেতনকারী বা নেশাজাতীয় কোনো পদার্থ থাকতে পারে বলে তার সন্দেহ।
ইশরাত আরও দাবি করেন, নির্যাতনের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন তিনি সেই ব্যক্তি নন, যাকে তারা খুঁজছিলেন। তখন হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দিলে সুযোগ বুঝে তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে ভবনের বারান্দা হয়ে নিচে নেমে ৩০০ ফিট সড়কে পৌঁছে একটি অটোরিকশায় উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বাসায় ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
একই ঘটনায় ইশরাতের সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনের ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে মারধরের পাশাপাশি তার পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়। যদিও তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগের পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট-নিয়ন্ত্রিত প্রবেশব্যবস্থা, অভিযোগে উল্লেখিত অফিসকক্ষ এবং বারান্দার অবস্থান বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ইশরাতের উবার যাত্রার ডিজিটাল রেকর্ড ও মোবাইল ফোনের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্যও অভিযোগের সময়সূচির সঙ্গে মিল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন ফরেনসিক যাচাই বা আইনগত সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। পরে অভিযোগের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য ও ভুল পরিচয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি পরদিন বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।