
মোঃ শাহজাহান বাশার
বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন যে রাজনৈতিক শক্তি, তাকে কখনোই কৌশলী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমন করা সম্ভব নয়।
শনিবার (জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাকে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। পরিবার, স্বজন ও প্রিয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দূরে থেকেও আমি চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চভাবে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। দূর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া, নিপীড়িত ও স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এই দায়িত্ব পালনে কখনো পিছপা হইনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের সময় দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের ওপর। দিনের পর দিন অনেককে ঘরছাড়া হয়ে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গুম-খুনের সেই ভয়াবহ দিন ও রাত এখন অতীত। দেশ ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের পথে ফিরছে। তবে সেই ক্ষত আজও শুকায়নি। এখনো অনেক সন্তান আশায় থাকে—হয়তো একদিন হঠাৎ করে তাদের বাবা দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা এখনো সন্তানের ফেরার প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন।
তিনি বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন কখনো তীব্র হয়েছে, কখনো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। কিন্তু বিএনপি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি, কখনো গুপ্ত বা সুপ্ত অবস্থানে যায়নি। জনগণের অধিকার আদায়ে দলটি সবসময় রাজপথে থেকেছে।
তারেক রহমান বলেন, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এতটা দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে, সেই দলকে ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের মাধ্যমে দমন করা সম্ভব নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—বিএনপিকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক সরকারের একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনো তাদের ত্যাগ ভুলে যেতে পারে না। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে শহীদদের নামে সড়ক ও স্থাপনার নামকরণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের আত্মত্যাগ স্মরণে রাখতে পারে।
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেন কোনো মহল নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। প্রকৃত বিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা।
উল্লেখ্য, অতীতে রাজনৈতিক নিপীড়নে গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এ সভার আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন।