
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে আরও এক ধাপ অগ্রগতি এসেছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতীক হাতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পরদিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনচিহ্ন বরাদ্দ প্রদান করতে হবে এবং একই সঙ্গে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এ লক্ষ্যে আজ সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ইসির ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে পৃথক ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
এদিকে, বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকায় এখন পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী স্থান পেয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার, লিফলেট, পথসভা, গণসংযোগ ও নির্বাচনী সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইসি পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নামের তালিকা বাংলা বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজিয়ে চূড়ান্ত করা হবে, যাতে প্রতীক বণ্টনে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার দৃষ্টি আগামী দিনের প্রচারণা, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার দিকে।