মোঃ শাহজাহান বাশার ২৪ জুলাই: বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে রক্তাক্ত পথরেখা তৈরি হয়েছে, সেই চেতনাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র সংস্কারের পথ এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া চুনকা অডিটোরিয়ামে জেলা ও মহানগর লেবার পার্টি আয়োজিত "জান দেবো, জুলাই দেবো না" শীর্ষক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. ইরান বলেন, “জুলাইকে ভুলে যাওয়া মানে শহীদদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে জাতি তার আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলে যায়, ইতিহাসও তাকে ক্ষমা করে না। তাই জুলাইয়ের চেতনা, আত্মদান ও সংগ্রামকে জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ধারণ করতে হবে। শহীদদের রক্তের ঋণ কেবল শোক প্রকাশের মাধ্যমে শোধ হবে না; তাঁদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেই ঋণ পরিশোধ সম্ভব।”
নারায়ণগঞ্জ মহানগর লেবার পার্টির সভাপতি আবদুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঈনুদ্দিন আহমাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক মো. শওকত আলী, লেবার পার্টির প্রচার সম্পাদক মো. মনির হোসেন খান এবং মহিলা সম্পাদিকা নাসিমা নাজনীন সরকার।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ লেবার পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ আলম পাটোয়ারী, গোলাম আজম, সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, সদস্য মো. এনামুল হক আকন্দ, ছাত্রমিশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল ইসলাম মামুন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসমিন শেখ, সদর থানা সভাপতি জাকারিয়া হক, ফতুল্লা মডেল থানা সভাপতি মোহাম্মদ মোহসিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি শাকিল আহমেদ এবং বন্দর থানা সভাপতি মো. মিশন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
প্রধান আলোচক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহস ও গণআকাঙ্ক্ষার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই হবে, যখন রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে। তিনি জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আবদুর রহমান খোকন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ‘জান দেবো, জুলাই দেবো না’ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি আমাদের অঙ্গীকার। বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারই হবে জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান। তিনি দল-মত নির্বিশেষে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।