মোঃ শাহজাহান বাশার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান বাসিরকে নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যকে 'মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর' দাবি করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
মো. হাসান বাসির গত ১ মে ২০২৬ সালে পল্লবী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। থানা সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, সন্ত্রাস, পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন এবং অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে পল্লবী থানা পুলিশ।
পল্লবী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমেছে এবং পুলিশের টহল ও নজরদারি বেড়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওসি মো. হাসান বাসিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকাশিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।
ওসি হাসান বাসির বলেন, "আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম এবং পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে চাকরি জীবনে অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছি।"
তিনি আরও দাবি করেন, তার বড় ভাই মো. আব্দুল ওহাব বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, তার ভাবি জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বড় ভগ্নিপতি ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বড় বোন জয়পুরহাট সরকারি কলেজ ছাত্রদল প্যানেলের সম্পাদিকা ছিলেন। "আমার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অথচ আমাকে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত," বলেন তিনি।
প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জাতীয় দৈনিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।